বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ১ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে কর জিডিপি ১.৫ শতাংশ বেড়ে যাবে : এনবিআর চেয়ারম্যান


প্রকাশন তারিখ : 2017-02-09

সম্পূর্ণ অন লাইন ভিত্তিক নতুন ভ্যাট আইন ২০১৭ সালের জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, এ আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে রাজস্ব আদায় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এতে প্রথম বছরই মোট কর জিডিপি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে (আইডিইবি) অর্থনৈতিক সংবাদাতাদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২’ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এনবিআর সদস্য (মূসক ও শুল্ক প্রশাসন) এবং ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক রেজাউল হাসান, ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন,ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় নতুন ভ্যাট আইনের বিভিন্ন বিষয়ের কয়েকটি উপস্থাপনা করেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
নজিবুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। মানুষকে সচেতন করা ও উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমেই রাজস্ব আহরণ বাড়ানো যায়। ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনটি বেশ জটিল হওয়ায় তা বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মানান সই ছিল না। ব্যবসা ও রাজস্ব বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের ভুল বোঝাবোঝি ও নানাবিধ দাবির কারণে তা বাস্তবায়নে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করেই এ ভ্যাট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।এ আইন বাস্তবায়নে এনবিআর এরই মধ্যে কাউন্ট ডাউন শুরু করেছে। তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধকরণ, সব কিছু অনলাইন ভিত্তিককরণ ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নসহ এনবিআর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান,ব্যবসায়ী-আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন ভ্যাট আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রেজাউল হাসান বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভ্যাট নেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণরূপে ভোক্তারাই প্রদান করবেন।ভ্যাট নিবন্ধনের পর ব্যবসায়ীরা স্ব নির্ধারণীর মাধ্যমে যে বিক্রয় দেখাবেন তার ওপরই ভ্যাট নেয়া হবে।সব ভ্যাট অন লাইনে আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে হয়রানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
কর্মশালায় ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, নতুন ভ্যাট আইন অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল। এ আইন বাস্তবায়ন হলে ভ্যাট ফাঁকি দেয়া অনেকাংশে কমে যাবে। কোনো ব্যবসায়ীকে ভ্যাট প্রদানের জন্য এনবিআরের অফিসে যেতে হবে না। এনবিআরের কর্মকর্তারাও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করবেন না। তিনি জানান, ৩০ লাখ টাকার কম বিক্রিতে কোনো ব্যবসায়ীকে ভ্যাট দিতে হবে না। ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার দিতে হবে। ৮০ লাখের বেশি বিক্রিতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। ভ্যাটের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবর্তে একটি সার্বজীনন অবস্থা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।