বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৪ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ মার্চ ২০১৭

ওসমানী বিমানবন্দর থেকে চালু হলো সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট


প্রকাশন তারিখ : 2017-03-16

ফ্লাই দুবাই’র উড়োজাহাজ বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করেছে। তাই অবসান ঘটেছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটবাসীর প্রায় দেড় যুগ সময় ধরে থাকা প্রতীক্ষার ।
উড়োজাহাজটি বুধবার বিকেল ৩টায় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে ওই ফ্লাইটে সরাসরি সিলেটে আসা ১৪৭ জন যাত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলী, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. ফজলে আকবর, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান হাবিব, ফ্লাই দুবাই'র বাংলাদেশস্থ জিএসএ স্কাই এভিয়েশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান সাইফুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল রেজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রমুখ।
ওসমানী বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, দুবাই থেকে সারাসরি আসা ফ্লাই দুবাই’র উড়োজাহাজটি বেলা ৩টায় ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বিমানটি ফিরতি ফ্লাইট হিসাবে দুবাই’র উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।
তিনি জানান, ফ্লাই দুবাইয়ের সিলেট আসা ফ্লাইটে বিমানটির ইকোনমি ক্লাসে ১৪১ ও বিজনেস ক্লাসে ৬ জন যাত্রী ছিলেন। আর এ বিমানের মোট ১৭৪টি আসনের মধ্যে রয়েছে বিজনেস ক্লাসের ১২টি এবং ইকোনমি ক্লাসের ১৬৫টি।
১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়। এর প্রায় ১৮ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এই বিমানবন্দর থেকে বিদেশি কোনো উড়োজাহাজের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো আজ। যদিও এর আগে আরেক দফা ফ্লাই দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়েছিল। কিন্তু চালুর পরদিনই তা বন্ধ হয়ে যায়।
তবে এবার বন্ধ হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে ফ্লাই দুবাইয়ের সিলেটের স্টেশন ম্যানেজার মাসুম মিয়া বলেন, ২০১৫ সালের ১ মে প্রথম ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাই দুবাই। কিন্তু গ্রাউন্ড সার্ভিস না পাওয়ায় ওইদিনের পর আর ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সাথে আমাদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের চুক্তি হয়েছে। ফলে এবার ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, প্রথম ৩ মাস ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহে পাঁচদিন দুবাই, কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ৩ মাস পর সপ্তাহে সাতদিনই ফ্লাইট থাকবে।
এদিকে, ওসমানী বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, কেবল ফ্লাই দুবাই নয়, এয়ার এরাবিয়া, জেট এয়ারসহ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
এর আগে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও ২০১৪ সালে কুয়াশার অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে প্রায় ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত হয় রিফুয়েলিং স্টেশন। ২০১৬ সাল থেকে এই রিফুয়েলিং স্টেশনও চালু হয়। কিন্তু এতোদিন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট না থাকায় এই স্টেশনের জ্বালানি বিক্রি হয়নি। ফলে চালুর পর থেকেই লোকসানে ছিল ওসমানীর রিফুয়েলিং স্টেশন।
এ প্রসঙ্গে ওসমানী বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, ২০১৫ সালে ফ্লাই দুবাই’র ফ্লাইট চালু হয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সংক্রান্ত জটিলতায় আবার বন্ধ হলেও এবার সব জটিলতার অবসান হয়েছে।
তিনি জানান, ওসমানী বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে ওয়াইড বডি বোয়িং ৭৭৭ মডেলের বিমানসহ অন্যান্য ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ৪৫২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আরো বিদেশি উড়োজাহাজ ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।