বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ২ ভাদ্র, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বিএসসিকে লাভজনক করতে ৩৬টি নতুন জাহাজ সংগ্রহসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে : নৌপরিবহন মন্ত্রী


প্রকাশন তারিখ : 2017-02-15

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)কে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার ৩৬টি নতুন জাহাজ সংগ্রহ করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসসি’র মাত্র ৩টি জাহাজ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানকে গতিশীল ও লাভজনক করতে ৩৬টি জাহাজ যুক্ত করা হবে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে চীনে তৈরি করা ৬টি জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত করা হবে। এজন্য পায়রা সমুদ্র বন্দরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
আজ নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিএসসি’র জন্য দু’টি এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল সংগ্রহ সংক্রান্ত এক নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক (এমও ইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান।
এমও ইউ-তে স্বাক্ষর করেন বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাইনিজ ইন্সটিটিউিট অব মেরিন এন্ড অফসোর ইঞ্জিনিয়ারিং এইচ বি কোম্পানি লিমিেিটডের জেনারেল ম্যানেজার ইয়ান জুন।
নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষরকালে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিকরুর রেজা খানম, যুগ্ম প্রধান মো: এনায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিএসসি’র বহরে যে দু’টি লিক্যুয়িড ন্যাচারাল গ্যাস (এল এন জি) ক্যারিয়ার ভেসেল যুক্ত হবে এর প্রতিটি ক্যারিয়ার ভেসেলের ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার কিউবিক মিটার। চট্টগ্রামের মহেশখালি দ্বীপে পেট্রোবাংলা স্থাপিতব্য দেশের প্রথম এলএনজি ইমপোর্ট টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহে এসব ক্যারিয়ার ব্যবহার করা হবে। এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল দু’টির কাজ মূল চুক্তি সম্পাদনের ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
শাজাহান খান আরো জানান, বিএসসি’র জন্য প্রতিটি ১,০০,০০০ থেকে ১,২৫,০০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি মাদার ট্যাংকার নির্মাণের জন্য চীনের একটি কোম্পানির সাথে গত এপ্রিলে বিএসসি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। মাদার ট্যাংকার দু’টি পাওয়া গেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বিদেশ হতে আমদানীকৃত ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর পর্যন্ত পরিবহণ করা যাবে। জাহাজ দু’টি ক্রয় করা হলে বিদেশী জাহাজের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ক্রুড অয়েলের মত একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহণে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়াও জাহাজ ভাড়ায় দীর্ঘসময়ের জন্য ¯িহতিশীলতা বজায় থাকাসহ আর্ন্তজাতিক যে কোন প্রতিকুল পরিস্থিতিতে আলোচ্য জাহাজের মাধ্যমে তৈল পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মেরিন একাডেমী হতে উত্তীর্ন ক্যাডেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণসহ শিপিং সেক্টরে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বপ্নের ‘ব্লু-ইকোনমির’ সুফল অর্জনে দেশ একধাপ এগিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, বিএসসি চীন থেকে ১৬টি জাহাজ সংগ্রহ করার লক্ষ্যে চীনের একটি কোম্পানির সাথেও গত সেপ্টেম্বরে একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১০টি লাইটার বাল্ক ক্যারিয়ার। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্টে কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রে এসব বাল্ক ক্যারিয়ার ব্যবহৃত হবে। নির্মাণ চুক্তির দু’বছরের মধ্যে এগুলো দেশে এসে পৌঁছবে। মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার প্রতিটি ৮০ হাজার ডেড ওয়েট টন (ডিডাব্লিউটি) এবং লাইটার বাল্ক ক্যারিয়ার প্রতিটি ৮-১০ হাজার ডিডাব্লিউটি সম্পন্ন হবে। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) কর্তৃক চীনা ব্যাংক হতে কমার্শিয়াল লোন বা অন্য কোন ঋণ সহায়তার অধীনে বিএসসি ১৬টি জাহাজ সংগ্রহ করবে।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের আরো জানান, বিএসসি’র জন্য বড় ধরনের ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছয়টি নতুন জাহাজ চীন থেকে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দেশে আসবে। এগুলোর মধ্যে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং তিনটি অয়েল ট্যাংকার। প্রতিটি জাহাজের পণ্য ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার টন। জাহাজগুলো সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ১,৮৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক দিবে ১,৪৪৮ কোটি টাকা, অবশিষ্ট ৩৯৫ কোটি টাকা দিবে বিএসসি। অয়েল ট্যাংকার দিয়ে বিপিসি পরিশোধিত আমদানিকৃত তেল পরিবহন করবে। বাল্ক ক্যারিয়ারে খোলা পণ্য, সারসহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহন করা হবে। ছয়টি জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা হবে, বিএসসি আগের মতো ঘুরে দাঁড়াবে।
১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে বিএসসির যাত্রা শুরু হয়। কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত সর্বমোট ৩৮টি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান বিএসসি’র বহরে ৩টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কন্টেইনার এবং দু’টি লাইটার ট্যাংকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএসসিকে নতুন জাহাজ সংগ্রহ করে লাভবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।