বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ১ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ জানুয়ারি ২০১৭

২০১৮ সাল নাগাদ দেশের ৪৬০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা


প্রকাশন তারিখ : 2017-01-26

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী উদ্যোগ-‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আওতায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) ৩১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা ভিত্তিক শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাপবিবো ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে কাজ করে চলেছে।
আজ বাপবিবো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ দেশের মোট ৪৬০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা দ্রুত কাজ করে চলেছে।
এ পরিকল্পনার আওতায় প্রথম ৬টি উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন।
গতবছরের (২০১৬) ডিসেম্বর পর্যন্ত আরো ২৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করবেন।
শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলমান অর্থ বছরে ১৪৬টি উপজেলা এবং আগামী অর্থ বছরে আরো ৩১৪টি উপজেলা বিদ্যুতায়ন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বাপবিবো জানিয়েছে।
বাপবিবো’র আওতায় বর্তমানে ৭৯টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতায়নের এই ইতিবাচক প্রভাব দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
এ জন্য ৩১ হাজার ২৬ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং আরও ৭টি প্রকল্প বিবেচনাধীন আছে।
বর্তমানে বাপবিবো’র গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৭৫ লাখ। আগামী জুন মাসের মধ্যে আরো নতুন ২৫ লাখ পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে। এতে গ্রাহক সংখ্যা হবে ২ কোটি।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ব্যাপক সফলতার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহে বাপবিবো দেশের সেরা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছে।
বাপবিবো’র কাজের গুণগত মানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে আইএসও সনদ অর্জন করে এবং এর ধারাবাহিক উন্নতির ফলে আইএমএস সনদও লাভ করে।
ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে অনলাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার স্বার্থে ই-জিপি টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২ হাজার ক্রয় প্রক্রিয়া ই-জিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
ইজিবাইকের ব্যাটারী চার্জিংয়ের জন্য বাপবিবো’র ইতোমধ্যে ৮টি সোলার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তন্মধ্যে ৪টি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৪০টি সোলার সেচ পাম্প স্থাপনের পাশাপাশি আরও ২ হাজার সোলার সেচ পাম্প স্থাপনে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বাপবিবো’র উদ্যোগে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৪০ হাজার কিলোমিটার লাইন এবং ৮৪টি উপকেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
পল্লী বিদ্যুতায়নের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে পল্লী অঞ্চলে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটেছে। এতে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।
সার্বিকভাবে দেশের জিডিপির সাড়ে সাত শতাংশ অগ্রগতিতেও প্রভাব রাখছে পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূিচ। দ্রুত লাইন নির্মাণ ও গ্রাহক সংযোগ, উন্নত গ্রাহক সেবা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও পবিস সমূহের লক্ষ্যমাত্রা পুনঃনির্ধারণ উপলক্ষে প্রতিবারের ন্যায় এবারও আগামী ৩, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি পবিস সমূহের জেনারেল ম্যানেজার সম্মেলন ও পিটিএ অনুষ্ঠিত হবে।