বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৪ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৫ মার্চ ২০১৭

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলায় সংখ্যাতত্ত্ব


প্রকাশন তারিখ : 2017-03-15

বাংলাদেশ- শ্রীলংকার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি কাকতালীয়ভাবেও একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ। কেননা আজ থেকে ১৪০ বছর আগে এই দিনটিতেই (১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ) মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেটের। আর টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেই বিশ্বের দশম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছে।
শ্রীলংকার বিপক্ষে কলম্বোর পি.সারা ওভালের ম্যাচটি তাই দুই দলের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট আঙ্গিনায় পথচলা শুরু হয় টাইগারদের।
সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে নিজেদের অভিষেক টেস্টে ৪০০ রান করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচেই দলের হয়ে সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম। ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যা ছিল অভিষেক টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসে দ্বিতীয়। ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার অভিষেক টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬৫ রান করেছিলেন চার্লস ব্যানারম্যান।
টেস্ট অভিষেকের পর প্রথম জয় পেতে ৩৫ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। এখন পর্যন্ত মোট ৮টি জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। ১৫টি ম্যাচ ড্র করলেও, হেরেছে ৭৬টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫বার শ্রীলংকার কাছেই হারে টাইগাররা।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথ পরিক্রমা:
৮- ৯৯ টেস্টে বাংলাদেশের ৮টি জয়। এই অবস্থানে অর্থাৎ ৯৯টি টেস্ট খেলে ৭টি জয় পেয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। তাই বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থা ছিলো অন্য কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশের। তবে এই অবস্থায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম টেস্ট হেরেছিলো নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ যেখানে ৭৬টি ম্যাচ হারে সেখানে ৪৬টি ম্যাচ হেরেছিলো নিউজিল্যান্ড। শতকরা হিসেবে বাংলাদেশের হার/জয় ০ দশমিক ১১। যেকোন দলের পরিসংখ্যানে এটি সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। দ্বিতীয়স্থানে আছে জিম্বাবুয়ে। শতকরা জয়/হার ০ দশমিক ১৭।
৩- ৯৯ টেস্টের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৫ ও ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ও ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় করে টাইগাররা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থায় আছে। কারন এই অবস্থায় মাত্র ১টি সিরিজ জিতেছিলো নিউজিল্যান্ড। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছিলো কিউইরা।
৯৯ ম্যাচ পর টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর পরিসংখ্যান :
দল জয় হার ড্র/টাই জয়/হার শতকরা সিরিজ জয় বিদেশের মাটিতে জয়
অস্ট্রেলিয়া ৪১ ৪০ ১৮ ১.০৩ ১৪ ১০
বাংলাদেশ ৮ ৭৬ ১৫ ০.১১ ৩ ৩
ইংল্যান্ড ৪৫ ৩৭ ১৭ ১.২২ ১৯ ২৮
ভারত ১০ ৩৯ ৫০ ০.২৬ ৪ ০
নিউজিল্যান্ড ৭ ৪৬ ৪৬ ০.১৫ ১ ৪
পাকিস্তান ১৮ ২৬ ৫৫ ০.৬৯ ৮ ৭
দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫ ৫১ ৩৩ ০.২৯ ৫ ৪
শ্রীলংকা ১৮ ৩৯ ৪২ ০.৪৬ ১২ ৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪ ৩৩ ৩২ ১.০৩ ১২ ১৮
জিম্বাবুয়ে ১১ ৬২ ২৬ ০.১৮ ৬ ২
২০১৪- সালটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সেরা। ঐ বছর তিনটি ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা। ২০০৩ সালটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর । ঐ বছর ৯টি টেস্ট খেলে সবক’টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। তারা।
২১- ২০০১ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। টানা ম্যাচ হারের রেকর্ড এটি। দ্বিতীয় রেকর্ডটি টানা ১০ ম্যাচ হারের। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে গিয়ে নিজেদের ৩৫তম টেস্টে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয়স্থানে আছে তারা। কারন প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে ৪৪ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিলো নিউজিল্যান্ডকে।
৩- ৩টি দেশকে টেস্টে হারাতে পেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে। তবে একমাত্র অস্ট্রেলিয়ার কাছেই সব ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। চারটি ম্যাচেই হার মানে বাংলাদেশ।
৩৫৪৬- টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওপেনার তামিম ইকবালের। এমনকি ওয়ানডে ও টি-২০ ফরম্যাটেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তামিম। ওয়ানডেতে ৫১২০ ও টি-২০তে ১২০১ রান রয়েছে তামিমের। বিশ্বের মধ্যে তামিমই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ সংগ্রাহক। এমনকি বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করেছেন তামিম।
১৭০- সাকিবের টেস্ট উইকেট। বোলিং-এ বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী সাকিব আল হাসান। তামিম যেমন তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তেমনি বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী সাকিব। ওয়ানডেতে ২২০ ও টি-২০তে ৬৭ উইকেট আছে সাকিবের। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সাকিবের পর ১শ উইকেট শিকারী একমাত্র বোলার মোহাম্মদ রফিক।
৬১- বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় মোহাম্মদ আশরাফুল। ১৭ বছর ৬১ দিন বয়সে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার। কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্সে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক টেস্টে ফিফটি করেছেন দু’জন। এরা হলেন মুশফিকুর রহিম ৫৩ ও হাবিবুল বাশার ৫০।
৫৯.৫৪- শতাংশ উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিকার এটি। এরপর আছে ভারত ও শ্রীলংকা। তাদের শিকার ৫০ শতাংশ। তবে বাঁ-হাতি স্পিনাদের শিকারে শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বাংলাদেশ। টাইগারদের বাঁ-হাতি স্পিনাররা শিকার করেছে ৪০.৯৪ শতাংশ উইকেট। দ্বিতীয়স্থানে আছে ভারত, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।
উইকেট শিকার দেশ অনুযায়ী :
দল উইকেট স্পিনাদের উইকেট শিকার শতকরা বাঁ-হাতি স্পিনারদের উইকেট শিকার শতকরা
ইংল্যান্ড ১৪৯৮৬ ৪৪৯৯ ৩০.০২% ২১০১ ১৪.০২%
অস্ট্রেলিয়া ১৩০১২ ৩৯৯৩ ৩০.৬৯% ৪৩৭ ৩.৩৬%
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৭৬২ ১৮৪৩ ২৩.৭৪% ৪৩৩ ৫.৫৮%
ভারত ৭২৩৬ ৪১৯৩ ৫৭.৯৫% ১৩৬৯ ১৮.৯২%
দক্ষিণ আফ্রিকা ৬২৭৭ ১৩৭৩ ২১.৮৭% ৬৬৫ ১০.৫৯%
পাকিস্তান ৫৯৯৪ ২৩৫৪ ৩৯.২৭% ৪৭০ ৭.৮৪%
নিউজিল্যান্ড ৫৬৪৪ ১৪০১ ২৪.৮২% ৭৩৭ ১৩.০৬%
শ্রীলংকা ৩৬৯৩ ১৮৮৩ ৫০.৯৯% ৫৮৫ ১৫.৮৪%
জিম্বাবুয়ে ১২৩৫ ৩৫৪ ২৮.৬৬% ১১৭ ৯.৪৭%
বাংলাদেশ ১০৪৩ ৬২১ ৫৯.৫৪% ৪২৭ ৪০.৯৪%

২৯- বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তার নেতৃত্বে ৫টিতে জয়, ১৫টি হার নয়টি ম্যাচে ড্র করে বাংলাদেশ। তার জয়/হারের শতকরা ০ দশমিক ৩৩। যা বাংলাদেশ অধিনায়কদের মধ্যে সেরা।হাবিবুল বাশার ১৮টি ও মোহাম্মদ আশরাফুল ১৩ ও খালেদ মাসুদ ১২টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাশারের নেতৃত্বে ১টি ম্যাচ জিতে টাইগাররা।
২৭- টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে টিনএজ ক্রিকেটারের অভিষেক সংখ্যা। এ পর্যন্ত ৯৯ টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে মোট জনের মধ্যে ২৭জন টিনএজ ক্রিকেটারের অভিষেক ঘটেছে। শতকরা হিসেবে ৩১.৭৬। অর্থাৎ প্রায় তিন জনে একজন টিনএজ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে। এ দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। এ অবস্থায় (৮০ টেস্ট) যাদের ১৭ টিনএজ ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছিল। শতকরা ২১.২৫ জন। দুই দেশ কেবলমাত্র বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নিজেদের শততম টেস্টে একশ’র চেয়ে কম খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে।
বুঝি নাই,
৩- টানা ৩ ম্যাচে বাংলাদেশ একই একাদশ বহাল রেখে খেলতে নামে। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে এবং ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সবগুলো ম্যাচই ছিলো দেশের মাটিতে। তৃতীয় ও শেষবারের মত এমন ঘটনা বাংলাদেশ করেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে ২০০৮ সালে। তবে তারা টানা দুই ম্যাচের বেশি একই একাদশ কখনোই বজায় রাখতে পারেনি।
৫৯৫/৮- গেল জানুয়ারিতে ওয়েলিংটনে নিউলিজল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দলীয় সংগ্রহ এবং এমন স্কোর করে ম্যাচটি হারে টাইগাররা। আর এটি হারা কোন দলের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ঐ ম্যাচে সাকিব আল হাসান ২১৭ রান করেন। বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এটি। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সাথে ৩৫৯ রানের জুটি গড়েন সাকিব। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে যেকোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি।
৫- ৫বার টেস্ট ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাকিবের পরে তিনবার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুশফিকুর ও আশরাফুল। এমনকি তিনবার সিরিজ সেরাও হন সাকিব। এটিও বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেউই সিরিজ সেরা হতে পারেননি।