বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৯ কার্তিক, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৯ এপ্রিল ২০১৭

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর


প্রকাশন তারিখ : 2017-04-09

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এরমধ্যে চারটি সমঝোতা স্বারক বিনিময় করেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি।
শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক এবং একান্ত বৈঠকের পর এবং তাঁদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে- অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা সহায়তা, বিদ্যুৎ, শান্তিপূর্ণ আণবিক শক্তির ব্যবহার, আউটার স্পেস, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয়াবলী।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে খুলনা-কোলকাতা রুটে নতুন যাত্রিবাহী বাস সার্ভিস, পরীক্ষামূলকভাবে খুলনা-কোলকাতা দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং পণ্য পরিবহনের জন্য বিরল-রাধিকাপুর রেলপথটি পুনরায় চালু করা হয়।
ঢাকা ও নয়াদিল্লী চারটি সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেছে। এগুলো হচ্ছে- দ্বিপাক্ষিক বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, তৃতীয় দফা ঋণ সহায়তা, শান্তিপূর্ণ আউটার স্পেস ব্যবহার এবং কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে যাত্রী ও পর্যটন সেবায় প্যাসেঞ্জার ক্রু সার্ভিস প্রটোকল আইন সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। তৃতীয় দফা ঋণ সহায়তা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশকে সাড়ে ৪০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি’র সচিব কাজী শফিউল হক এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয় শংকর।
শান্তিপূর্ণভাবে আউটটার স্পেস ব্যবহার সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং ভারতের ডিপার্টমেন্ট অব স্পেসের সচিব এ এস কিরন কুমার। আর কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে যাত্রী ও পর্যটন সেবায় প্যাসেঞ্জার ক্রু সার্ভিস প্রটোকল আইন সম্পর্কিত স্মারকটি দুই দেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
অন্যান্য স্মারক ও চুক্তিগুলো হচ্ছে- ‘বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রূপরেখা’ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
‘কৌশলগত ও ব্যবহারিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে’ ঢাকার মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ ও ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের ওয়েলিংটনে (নিলগিরি) ডিফেন্স সার্ভিস স্টাফ কলেজের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
‘জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও কৌশলগত শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে’ ঢাকার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও নয়াদিল্লীর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
‘আণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা’র বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকসের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ভারতের ইলেক্ট্রোনিকস ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
‘পরমাণু নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণে কারিগরি তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা’ সংক্রান্ত চুক্তি।
বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাটোমিক এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএইআরসি) ও ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপের (জিসিএনইপি) মধ্যে চুক্তি।
এ ছাড়া আরো স্মারক ও চুক্তির মধ্যে রয়েছেÑ সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটি) ও ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিমের (সিইআরটি-ইন) মধ্যে চুক্তি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত জুড়ে সীমান্তহাট স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক।
ভারতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা তৈরির কর্মসূচির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক।
নৌবিদ্যায় সহায়তার বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
ভূবিদ্যা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে সিরাজগঞ্জ থেকে লালমনিরহাটের দইখাওয়া এবং আশুগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জ পর্যন্ত নাব্য চ্যানেলের উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক।
গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক।
অডিও-ভিজ্যুয়াল সহ-প্রযোজনা চুক্তি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ও ভারতের তথ্য সচিব এ দুটি চুক্তি ও স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণ সহায়তা সমঝোতা স্মারকে সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সই করেন।
মোটরযান যাত্রী চলাচল (খুলনা-কলকাতা রুট) নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি ও চুক্তির স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরসে দুই দেশে সড়ক বিভাগের সচিব স্বাক্ষর করেন।
এ ছাড়া, বাংলাদেশে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে অর্থায়নের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার সই করেন।
এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিবসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।