বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৩ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd এপ্রিল ২০১৭

ভোলায় সাড়ে ৭ হাজার মা পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা


প্রকাশন তারিখ : 2017-04-03

জেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার নারীকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মাতৃত্বকালীন ভাতা। জেলার ৭ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪১২ জন মায়ের জন্য প্রত্যেককে মাসিক ৫০০টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। প্রতি ৬ মাস পর পর উপকারভোগীর নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নাম্বারে ৩ হাজার টাকা জমা হয়। আর বছরে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান হয় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেবুন্নেছা বাসস’কে জানান, মাতৃমৃত্যু এবং শিশু মৃত্যু রোধ করার লক্ষ্যে গর্ভকালীন সময়ে কিংবা গর্ভের পরে মা ও শিশু পুষ্টির চাহিদা মিটানোর জন্যই এই ভাতা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সমন্ধে বিভিন্ন পরামর্শমূলক সেবা দেওয়া হয়। সাধারণত প্রথম অথবা দ্বিতীয় গর্ভকালীন সময়ে ২ বছর মাসিক এই ভাতার টাকা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মায়েরা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, সমাজের অসহায়, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মায়েদের মাতৃত্বকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সাল থেকে সরকার এভাতা চালু করেছে। বিগত বছরে প্রত্যেক ইউনিয়নে ৫৭জন ভাতাভোগী থাকলেও চলতি অর্থবছরে তা ১শ’ ৯জন করা হয়েছে। প্রতিবছরই এর জপ্রিয়তা ও ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর নতুন নামের তালিকা তৈরি করা হয়। ফলে কমছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার।
জেলার মোট মাতৃত্বকালীন উপকারভোগীদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪শ’ ১৭ জন, চরফ্যাসনে ২ হাজার ৭১, লালমোহনে ৯৮১, মনপুরায় ৪শ’ ৩৬, তজুমুদ্দিনে ৫৪৫, বোরহানউদ্দিনে ৯৮১ ও দৌলতখান উপজেলায় ৯৮১ জন মা রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরিব পরিবারের মায়েদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন তা চূড়ান্ত করে।
এদিকে জেলার গ্রামীণ দরিদ্র সমাজে এখানো অনেকে প্রাচীন ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী। বিশেষ করে চরাঞ্চলগুলোতে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার লক্ষ্য করা যায়। একজন মা যখন গর্ভবতী হয়, তখন তার জন্য বাড়তি অথবা পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হয়। যা গ্রামীন জনগোষ্ঠীর অনেকেই জানেনা বা খেয়াল করেননা কিংবা অর্থনৈতিক দৈন্যতার জন্য সম্ভব হয়না। কারো কারো ধারণা মাতৃত্বকালীন সময়ে কম খাবার খেতে হয়। শাক-সবজি খেলে পেটে অসুখ হয়। তাই মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের মাধ্যমে মা ও তার পরিবারের লোকজন চাহিদামত খাবার খেতে পারে। অজ্ঞতা দূর হচ্ছে। পুষ্টির অভাব অনেকটাই পূরণ হয়। ভাতা প্রাপ্তির ফলে ঐ পরিবারে মায়ের কদর বারে ও পরিবারের লোকজন মায়ের দিকে বাড়তি খেয়াল নেয়।
সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দরিদ্র দিনমজুর জাহাঙ্গির। মা, বাবা, ছোট বোন ও স্ত্রী জান্নাত বেগমকে নিয়ে অভাবের সংসার। স্ত্রী জান্নাত বেগম সন্তান সম্ভবা। তাই মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্ত্রীকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াচ্ছেন। জাহাঙ্গির বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বাড়তি টাকা দিয়ে স্ত্রীর জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো সম্ভব নয়। এখন সরকারি টাকায় স্ত্রীকে বিভিন্ন খাবার কিনে দিচ্ছেন। শুধু জান্নাত বেগম নয়, মরিয়ম বেগম, নার্গিস বেগম, ফাতেমা বিবি, নাসরিন, সোনিয়া, তাসনুরসহ অনেকেই ভাতার টাকায় গর্ভকালীন সময়ে ভালো আছেন।
আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামের দরিদ্র ভ্যনচালক ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আমেনা বগেম বলেন, এই ভাতার টাকায় তার অনেক উপকার হচ্ছে। কখোনোই এত টাকা একসাথে পাননি। এই টাকায় গর্ভকালীন সময় ও গর্ভের পরে তার কাজে দিচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই এলাকার মরিয়ম বেগম, লাইজু বেগম, খাদিজা বেগম বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার কারণে তাদের গর্ভ নিরাপদ হয়েছে। হাতে নগত অর্থ থাকায় মানসিকভাবেও শক্ত ছিলেন তারা।
সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ইউনুছ বাসস’কে বলেন, বর্তমান সরকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাউত সাউত পুরস্কার লাভ করেছে। তাই মাতৃত্বকালীন ভাতা দরিদ্র ও অসহায় মায়েদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা নিশ্চিত করছে।
তিনি আরো বলেন, ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নদীর পাড়, বেড়ি বাঁধের, আশ্রয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন অসচ্ছল ও গরিব পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শতভাগ সচ্ছতা বজায় রেখে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করা হয় বলে জানান ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ।