বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৮ আষাঢ়, ১৪২৫
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে যোগদান


প্রকাশন তারিখ : 2017-12-17

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বিজয় অর্জনের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার এক আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, আধাসামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের বিভন্ন মন্ত্রণালয় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্রবাহিনীর পৃষ্টপোষকতায় সাভারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে স্যালুট গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্যারেড কমান্ডেন্ট মে. জে. মো. আকবর হোসেনের সঙ্গে একটি খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন ও স্যালুট গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং এসময় তিনি আকাশে বিমানবাহিনীর মহড়াসহ সশস্ত্রবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ ও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ধরনের রণকৌশল মহড়া উপভোগ করেন।
১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে জেনারেল এ এ কে নিয়াজি তার সদস্যদের নিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান এ্যাডমিরাল নিজামুদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এশরার, সশস্ত্রবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, স্পিকার ড. শিরিন সারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এই প্যারেড হাজারো সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারত ও রাশিয়ার সেনা সদস্যবৃন্দ দেশের ৪৭তম বিজয় দিবস উদ্যাপনে যোগ দিতে সস্ত্রীক ঢাকায় এসে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন।
কুচকাওয়াজে বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর চলমান উন্নয়ন এবং দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি, মিগ-২৯ বিমান মহড়াসহ বিভিন্ন এয়ারক্রাফ্ট মহড়া, নৌবাহিনী ও র‌্যাবের প্যারাট্রুপারদের হেলিকাপ্টার থেকে অবতরণ দেখানো হয়।
আর্মি এভিয়েশনের এয়ারক্রাফট, নেভি এভিয়েশন এবং র‌্যাব হেলিকপ্টার থেকে প্যারাট্রুপারদের আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন যোগ হওয়া মাল্টি ল্যাঞ্চিং রকেট সিস্টেম, এমবিটি-২০০০ ট্যাঙ্ক, সেলফ্ প্রপেল গান, আর্মারড লাইট ভেইকেল এবং ওয়েপন লোকেটিং রাডার এসএলসি-২, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন যোগ হওয়া ডিফেন্ডার ক্লাস বোট এসময় প্রদর্শিত হয়।
কুচকাওয়াজ শেষে এক দৃষ্টিনন্দন আতশবাজির পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের সঙ্গে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিজয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়।