বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৩rd জানুয়ারি ২০১৭

ডব্লিউইএফ’র সম্মেলনে যোগদান দেশের সুখ্যাতি অর্জনে অবদান রেখেছে


প্রকাশন তারিখ : 2017-01-23

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সদ্য সমাপ্ত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ২০১৭’র বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো দৃঢ় অংশগ্রহণ বিশ্ব মঞ্চে দেশের সুখ্যাতি অর্জন (পজেটিভ ব্রান্ডিং) এবং ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে সাফল্যজনক অবদান রেখেছে।
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের দৃঢ় অংশগ্রহণ বিশ্ব অঙ্গনে দেশের সুখ্যাতি ও সাফল্য এবং বিভিন্ন খাতে অর্জনসমূহ উপস্থাপনে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যবর্গ ও দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিশ্ব মঞ্চে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে ডব্লিউইএফ’র বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিলো খুবই ফলপ্রসূ ও সফল। কারণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে দেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক সাফল্য উপস্থাপন করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে তারা গত ৮ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন খাতে দেশের অর্জিত সাফল্য এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করেছেন। এ সঙ্গে তারা কি ধরনের প্রযুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজের ওপর প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসের কংগ্রেস সেন্টারে ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিলো প্রতিবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাণিজ্য, ব্যবসা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা করেন।
ডব্লিউইএফ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াব সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। প্রথম বাংলাদেশী নিমন্ত্রিত নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা উচ্চপর্যায়ের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে যোদ দেন। এতে রাষ্ট্রনায়ক, শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন।
সম্মেলনে সুইডেন, নরওয়ে, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, শ্রীলংকা, পেরু, জর্ডান, মিসর ও কাতারসহ ৬০ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং জাতিসংঘ, ডব্লিউটিও, ইউনেস্কো, ইউএনডিপি, আঙ্কটাড, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি’র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অংশগ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্যের প্রেক্ষাপটে এই প্রথমবারের মতো ডাভোস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, প্রায় ৬০ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধাগণ সম্মেলনে যোগ দেন। এতে সমসাময়িক অর্থনীতি সম্পর্কিত সব বিষয়ই আলোচিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, ডাভোসের ডব্লিউইএফ-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক ‘ভিন্নতর পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছে।
তিনি বলেন, ‘এর পরবর্তী ফল পরে দেখা যাবে এবং এখনই এর যথাযর্থতা নিরূপণ করা হবে কঠিন।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ডাভোস এমন এক প্লাটফর্ম যেখানে সরকারি, বেসরকারি ও সুশীল সমাজের ১০, ২০ অথবা ৩০ বছর পরে বিশ্বের দৃশ্যপট কেমন হবে সে ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলো।
তিনি বলেন, ‘ডব্লিউইএফ’র বক্তব্য ছিলো ভবিষ্যত নিয়েÑ বর্তমান নিয়ে নয়।’
ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বিনিয়োগ সমাজের কাছে নিজেকে সফলভাবে ব্রান্ডিং করতে পেরেছে।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, এই ফোরামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে বিনিয়োগ ও অন্যান্য সেক্টরে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রকৃত ধারণা সফলভাবে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ডব্লিউইএফ’র উচ্চপর্যায়ের বার্ষিক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ ও তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক সাফল্যের স্বীকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
অধ্যাপক আহমেদ আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বর্তমান ধারা বজায় রাখতে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নের জন্য দেশকে আরো বেশি উন্নয়ন প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ডাভোসে অবস্থানকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং ডব্লিউইএফ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াবের সঙ্গে বৈঠক করেন।
শেখ হাসিনা ১৭ জানুয়ারি ডাভোসের কংগ্রেস সেন্টারে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অধিবেশন উদ্বোধনের আগে ডব্লিউইএফ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ‘শেপিং এ নিউ ওয়াটার ইকোনমি’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নেন এবং ওইদিন কংগ্রেস সেন্টারে ‘হার্নেশিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এক বিতর্ক অধিবেশনে যোগদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী ১৮ জানুয়ারি ‘ওয়ার্ল্ডস আন্ডার ওয়াটার’ শীর্ষক কর্মসূচির পাশাপাশি লিডিং দ্য ফাইট এগেইনস্ট ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক এক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নেন।
তিনি ১৯ জানুয়ারি বিকেলে এখানে হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ডিজিটাল লিডার্স পলিসি মিটিং অন জবস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
অর্থনীতির ডিজিটালকরণে (ডিজিটাল বাংলাদেশ) বাংলাদেশের সাফল্যের প্রেক্ষিতে এ বছর ডব্লিউইএফ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলভুক্ত করেছে। ডব্লিউইএফ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ক্লাউস সোয়াবের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) কাছে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে একটি সভার আয়োজন করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এর ধরনের একটি সভা আহবানে প্রস্তুত রয়েছে।’
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) জেনেভার কলগনি-ভিত্তিক একটি সুইস অলাভজনক ফাউন্ডেশন । সুইস কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ডাভোসে জানুয়ারির শেষ দিকে অনুষ্ঠিত এই ফোরামের ৪৩তম বার্ষিক সভায় বিশ্বের প্রায় তিন হাজার শীর্ষ ব্যবসায়ী-নেতা, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচিত বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক অংশ নেন।
৪ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।