বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৯ কার্তিক, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ এপ্রিল ২০১৭

সব প্রস্তাব নতুন ভ্যাট আইনকে ঘিরেই


প্রকাশন তারিখ : 2017-04-04

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে। এনিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা শংকা কাজ করছে। তা ফুটে উঠেছে ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর বাজেট প্রস্তাবে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে পণ্যের দাম বাড়বে। পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করায় দেশীয় শিল্প হুমকিতে পড়বে।
সোমবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্মাণ, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পখাতের ব্যবসায়ীরা নতুন ভ্যাট আইনকে ঘিরে সব প্রস্তাব দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, শুল্কনীতির সদস্য লুৎফর রহমান ও ভ্যাট নীতি সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রি-রোলিং মিল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতিত আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ট্যারিফ পদ্ধতি থাকছে না। এনিয়ে স্টিল শিল্প উদ্বিগ্ন। তাই শিল্পের স্বার্থে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হিসেব করে তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা উচিত। এর ব্যত্যয় ঘটলে লৌহ শিল্পে ধস নামবে।
সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর শুল্ক কর পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্টিল শিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট সমর্থনযোগ্য নয়। এতে টনপ্রতি রডের দাম ৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।
প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির প্রতিনিধি শামীম আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করলে ১ হাজার ৩৭০টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক উঠে যাবে। এ নিয়ে প্লাস্টিক খাতের ব্যবসায়ীরা উদগ্রিব। সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে প্লাস্টিক খাতের ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে না।
এসএমই এসোসিয়েশনের সভাপতি আলী জামান বলেন, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাসবোধের ঘাটতির জায়গা তৈরি হচ্ছে।রেজিস্ট্রেশনে শুরুতেই করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হচ্ছে। পরবর্তীতে আয়কর অফিস যদি টিআইএনের সূত্র ধরে টার্নওভারের ১০ শতাংশ গ্রস প্রফিট হিসেব করে তাহলে ব্যবসায়ীদের আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টার্নওভার ট্যাক্স ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে। তার মানে পণ্যের ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন। অনেক বড় প্রতিষ্ঠান যারা রেয়াত নিতে পারে তারাও ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে পারে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
হালকা প্রকৌশল শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, নতুন আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের কিছু ক্ষেত্রে আপত্তি আছে। তাই আইন বাস্তবায়নের পর এনবিআরকে যাতে আবার ইউটার্ন দিতে না হয়। ব্যবসায়ীরা সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।
প্লট ও ফ্লাটের রেজিস্ট্রেশনের কর কমানোর আহ্বান জানিয়ে রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকর আলী ভুইয়া বলেন, আমরা কালো টাকা সাদার করার সুযোগ চাই না। শুধু অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ চাই। পাশাপাশি আবাসন শিল্প রক্ষার্থে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যমান ভ্যাট হ্রাসসহ নতুন ভাবে ভ্যাট আরোপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
পিভিসি পাইপ প্রস্তুতকারক সমিতির প্রতিনিধি ইকবাল জামান জুয়েল বলেন, কিছু খাত আছে যেগুলোর ট্রানজেকশন বেশি কিন্তু মুনাফা কম। তাই বিক্রয়ের ওপর ভ্যাট আদায় যৌক্তিক হবে না। এসব খাতে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য হারে ভ্যাট আদায় না করলে বিকৃতির মধ্যে পড়বে। আয়রন অ্যান্ড স্টিল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন নুরানী বলেন, ১ টন মালামাল বিক্রি করলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মুনাফা থাকে। কিন্তু ৪ শতাংশ হারে ট্রেড ভ্যাট ধরলে ১৫ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। যা ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম হয়ে যাচ্ছে। আবার ৫০০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির জন্য ১৫ দিন যাবতও গাড়ির আটকে রাখার মতো নজির আছে। ভ্যাট আদায়ের আগে খাতভিত্তিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে আহ্বান জানান তিনি।
পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন বেলাল বলেন, রাবারের পাদুকা ও হাওয়াই চপ্পলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করায় পণ্যের দাম বাড়ছে।এ সুযোগে চীনের জুতার বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এতে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছেছে।
এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, নতুন ভ্যাট আইন এমন এক ব্যবস্থা,যেখানে করদাতারা বিশ্বমানের উন্নত সেবা পাবেন।কর কর্মকর্তারা স্বেচ্ছা ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। এই ব্যবস্থায় ক্ষতি নয়, বরং এসএমই শিল্পের প্রসার ঘটবে।
তিনি ব্যবসায়ীদের বেচাকেনার হিসাব সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।