বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৯ এপ্রিল ২০১৭

অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প উৎপাদন শুরু


প্রকাশন তারিখ : 2017-04-09

দেশে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের চলমান প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে গঠিত হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদনের সূচনা হয়েছে। নারায়গঞ্জে অবস্থিত দু’টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৭টি শিল্প ইউনিট ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে এবং মোংলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিগগিরই উৎপাদন শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র আকারে শুরু হলেও আগামী বছরে উৎপাদন বড় পরিসরে দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের হিসাবমতে,উৎপাদন শুরু হওয়া এই শিল্প কারখানায় প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে।
২০৩০ সাল নাগাদ দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাক-যোগ্যতা সনদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত সনদ পেয়েছে। এর বাইরে পিপিপির ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।
এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, চূড়ান্ত সনদ পাওয়া বেসরকারি খাতের তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে দু’টিতে (মেঘনা ও আমান) ইতোমধ্যে সিমেন্ট,কাগজ, প্যাকেজিং ও জাহাজ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।এছাড়া আব্দুল মোনেম অঞ্চলটির প্লট বিনিয়োগকারীদের কাছে ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই সেখানকার কারখানাগুলোও উৎপাদনে যাবে।
তিনি বলেন,সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) তৈরি হওয়া মোংলা অথনৈতিক অঞ্চলের ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন সংযোগ এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।এখানেও প্লট ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি সেখানেও শিগগিরই উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান,চলতি বছর বেসরকারি খাতের আরো ২টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের চূড়ান্ত সনদ দেওয়া হবে। এছাড়া এ বছরই বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রাক-যোগ্যতা সনদ পাবে।
পবন চৌধুরী বলেন, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৭৬টি জায়গা আমরা নির্বাচন করেছি।বাকীগুলোও পর্যায়ক্রমে নির্বাচন করা হবে। তবে নির্বাচিত সব জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে এমন নয়,কারণ যাচাই-বাছাইয়ের পর উপযুক্ত মনে হলেই কেবলমাত্র সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হবে।
তিনি মনে করেন,পর্যাপ্ত ভূমি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের একমাত্র শর্ত নয়,এর জন্য উপযুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থা, জ্বালানির পর্যাপ্ততা এবং উপকরণ সহজলভ্যতা থাকতে হবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করবে কবে থেকে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে আমরা অন্তত ৩০টি অঞ্চল পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারবো। এরপর ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন অঞ্চল এ তালিকায় যুক্ত হবে।আশা করি-২০১৯ সালের মধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমাদের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেজার পক্ষ থেকে পণ্য বাছাই করা হবে না।এটি উন্মুক্ত রাখা হবে। বিনিয়োগকারীরাই ঠিক করবেন, তারা কোন পণ্যখাতে বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগকারীদের সুবিধা মতোই পণ্য বিনিয়োগ বাছাই করবেন।
পবন চৌধুরী বলেন,আমরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পণ্য বাছাই করবো না ঠিকই। তবে আমাদের প্রধান আগ্রাধিকার হবে কর্মসংস্থান।
তিনি বলেন,পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল পুরোপুরি প্রস্তুত করা গেলে,এতে এক কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার। আর তাতে ৪ হাজার কোটি টাকার রফতানি আয় নতুনভাবে যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চীন, জাপান ও ভারত আলাদাভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাছাই করেছে। এই অঞ্চলগুলো প্রস্তুত হলে বিেিদশী বিনিয়োগে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে বেজা আশা করছে।