বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৯ কার্তিক, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ মার্চ ২০১৭

বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত দুর্গম থানচি


প্রকাশন তারিখ : 2017-03-29

            

১ মার্চ থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলাবাসী সরকারি বিদ্যুতের আলো পেতে শুরু করেছেন। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলায় নতুন বিদ্যুতায়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
১ মার্চ থেকে থানচি উপজেলা সদর বলিপাড়া এবং আশেপাশের শত শত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আলোকিত হয়েছে। ক্রমেই বাড়ছে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যাও।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের এপ্রিলে থানচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শুরু হয়। আর শেষ হয় গত বছরের জুনে। একই বছরের আগস্টের দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পায় থানচির মানুষ। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। ক্রমান্বয়ে সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ কিলোমিটার ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন, ১১ কেভির ২৮ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন ও ১৭ কিলোমিটার বিতরণ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ১৭টি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বলীপাড়া বিজিবি’র উপকেন্দ্র (সাব-স্টেশন) থেকে ৫ হাজার পরিবারকে আবাসিক সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। জেলা শহর থেকে ওয়াই জংশনের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। ওয়াই জংশনের সাব স্টেশন থেকে একটি বিদ্যুতের লাইন গেছে রুমা উপজেলায়। আর একটি চিম্বুক পর্যন্ত। নতুন প্রকল্পের আওতায় চিম্বুক থেকে বলীপাড়া পর্যন্ত নতুন সাব স্টেশন করা হয়েছে।
পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ভূইঁয়া বলেন, অগ্রসর এলাকার মত বিদ্যুত পাবেন থানচির মানুষ। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ফলে জীবনমান পাল্টে যাবে এখানকার মানুষের। কৃষি, পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটবে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল আর নষ্ট হবে না।
থানচি ইউপি চেয়ারম্যান মাংসার ম্রো বলেন, ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত থানচি উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও এখানকার মানুষ ছিল অন্ধকারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কিছু সংখ্যক মানুষ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ছিল বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ায় এলাকার মানুষের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন ঘটবে।