বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ১ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৩rd জানুয়ারি ২০১৭

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ: বিনিয়োগ বাড়াতে চলতি মাসেই মহাপরিকল্পনা


প্রকাশন তারিখ : 2017-01-23

দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা হচ্ছে।এর পাশাপাশি গ্যাস বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে সুপারিশ থাকছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে চলতি মাসের ৩১ তারিখ চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, এসডিজি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনূসুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এতদিন ব্যবসায়ীরা হাত বাধা অবস্থায় ব্যবসা করেছে। আর নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে তাদের হাত পা খুলে যাবে। বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট অনুসারে বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিবেশের বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। আগামী ৫ বছরে তা কমিয়ে ৯৯ নামিয়ে আনা হবে। এর অর্থ হল দেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো উন্নত হবে।
তিনি বলেন, বিডার উদ্যোগে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমে আরো গতি বাড়াতে কী করবে, সে সংক্রান্ত কর্মসূচি তারা দিয়েছে। এসব কর্মসূচি সমন্বয় করে প্রকাশ করা হবে।
বিডার চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর এজন্য বিডা গঠন করা হয়েছে। আর শিগগিরই তার সুফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর মে মাস পর্যন্ত সময়কাল হিসাব করে ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। আশা করি আগামী রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে সহজে ব্যবসা করা যায়,সেটি ওই রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে ঋণ পায় সেজন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জমি ক্রয়, শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে রফতানি করা যায়, সে বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তার মতে, অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অনেক অর্জন রয়েছে। কিন্তু এতদিন উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী যে সব অর্জন করেছে, তা হাত পা বাধা অবস্থায়। অর্থাৎ তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। আর ভবিষ্যতে তারা যাতে হাত খুলে ব্যবসা করতে পারে তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নজিবুর রহমান বলেন,কর এবং আমদানি রফতানি সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করবে এনবিআর। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে বিডার সঙ্গে সুষমভাবে কাজ করবে এনবিআর।
উল্লেখ্য, বিশ্বের কোন দেশে কত সহজে ব্যবসা করা যায়, প্রতিবছর এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ওই রিপোর্টকে ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বলা হয়। আর বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এর মূল কারণ সরকারের অস্থিরতা এবং কার্যকর সংস্কারের অভাব। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না।
ওই রিপোর্টে ব্যবসার পরিবেশকে ১০টি বৃহত্তর নির্দেশিকা বা বিষয়ে বিন্যস্ত করে সেগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।এর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এ সূচকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯। এছাড়া অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন, অসচ্ছলতা দূরীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যে পাঁচটি সূচকে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ব্যবসায় শুরু। এসূচকে গতবার বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১১। ঋণের প্রাপ্যতা সূচকে ১২৮ থেকে পাঁচ ধাপ কমে ১৩৩ হয়েছে।