বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৫ এপ্রিল ২০১৭

প্রথম টি-২০ জিতলো শ্রীলংকা


প্রকাশন তারিখ : 2017-04-05

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টুয়েন্টি টুয়েন্টি ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে শ্রীলংকা। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো লংকানরা। 
ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকে বিদায় নেয়ার সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বকে জানিয়ে দেন বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। চলমান সিরিজ শেষেই টি-২০ ফরম্যাট থেকে বিদায় নিবেন তিনি। এমন আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিয়েই টস লড়াইয়ে নামেন ম্যাশ। সেখানে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত মাশরাফির। ম্যাচ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর পর টি-২০ ক্যারিয়ার নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ম্যাশ, ‘বাংলাদেশের হয়ে এটিই শেষ টি-২০ সিরিজ।’
মাশরাফির এমন সিদ্ধান্ত হয়তো নিতে পারেননি বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। তাই ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তিনি। এরপর দারুন এক জুটি গড়ে তোলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। দু’জনের সহজাত ব্যাটিং-এ চিন্তায় পড়ে যায় শ্রীলংকা। কারন ৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫৭ রানে নিয়ে যান তারা। রান তোলায় সাব্বিরের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন সৌম্যই। 
তবে ষষ্ঠ ওভারেই জোড়া ধাক্কায় ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ বলে ২৯ রান করে সৌম্য ও ২টি বাউন্ডারিতে ১৪ বলে ১৬ রান করে আউট হন সাব্বির। 
সৌম্য ও সাব্বিরকে হারানোর ধাক্কা ভুলে যাবার চেষ্টা করেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। কিন্তু জুটিটি বেশিক্ষণ জমেনি। মাত্র ১৫ বল খেলতে পেরেছেন দু’জনে। এতে রান আসে মাত্র ১৩ রান। ব্যক্তিগত ৮ রানে মুশফিকুরের বিদায়ে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 
বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি সাকিবও। ১১ রানেই থেমে যান তিনি। এতে ৮২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। সেখান থেকে শক্ত হাতে হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রান তোলার গতি বাড়িয়ে রেখে দলের স্কোর সামনের দিকে দক্ষতার সাথেই এগিয়ে নিচ্ছিলেন তারা। তাই লড়াই করার পুঁজি পাওয়ায় স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। 
কিন্তু শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ। তামিমকে ফেরানো শ্রীলংকার পেসার লাসিথ মালিঙ্গার শিকার হন তিনি। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেয়ার আগে ৩টি চারে ২৬ বলে ৩১ রান করেন মাহমুুদুল্লাহ। 
এরপর ইনিংসের বাকী ১১ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৬ রান করে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে ১৫৫ রানের সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক ও মাশরাফি। মোসাদ্দেক ৩ বাউন্ডারিতে ৩০ বলে ৩৪ ও মাশরাফি ১টি চারে ৫ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলংকার মালিঙ্গা ৩৮ রানে ২ উইকেট নেন। 
জয়ের জন্য ১৫৬ রানের টার্গেটের জবাবটা বেশ শক্তভাবেই দেয় শ্রীলংকা। আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে শুরু করে বাংলাদেশের বোলিং লাইন-লেন্থকে পথহারা বানিয়ে ফেলেন শ্রীলংকার দুই ওপেনার কুশাল পেরেরা ও অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। পাওয়া-প্লে’র প্রথম ৬ ওভারে তারা যোগ করেন ৫৭ রান। এসময় নিজেসহ পাঁচ বোলার ব্যবহার করে সাফল্য পাননি টাইগার দলপতি মাশরাফি। 
তাই বাধ্য হয়ে সপ্তম ওভারে আবারো বল হাতে আক্রমনে আসেন মাশরাফি। শ্রীলংকার ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নিজের স্পেলে ৬ রান দেয়া ম্যাশ, এবার তুলে নেন সাফল্য। নিজের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে শিকার করেন লংকান দলপতিকে। তাই দলীয় ৬৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলংকা। ৪টি চারে ২৩ বলে ২৪ রান করে থামেন থারাঙ্গা। 
প্রথম উইকেট শিকার করেও ক্ষান্ত হননি মাশরাফি। নিজের তৃতীয় ওভারে স্বাগতিকদের আরও একটি উইকেট তুলে নেন তিনি। তিন নম্বরে নামা দিলশান মুনাবিরাকে ৮ রানে থামান ম্যাশ। ৭৯ রানে শ্রীলংকার দ্বিতীয় উইকেট শিকার করে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখা শুরু করে টাইগাররা। 
কিন্তু বাংলাদেশের স্বপ্নে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান পেরেরা ও আসেলা গুনারতেœ। তাড়াহুড়া না করে দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা। পাশাপাশি বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তোলার কাজটা সেড়েছেন চুপি-চুপি। এই অবস্থায় পেরেরা-গুনারতেœর জুটি ভাঙ্গার উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। 
১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়েছিলেন পেরেরা। কিন্তু সেটি তালুতে বন্দি করতে পারেননি বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। তবে পরের বলেই রান-আউটের ফাঁদে গুনারতেœকে ফেলে সাফল্য তুলে নেয় টাইগাররা। তৃতীয় উইকেটে ৪১ বলে ৪১ রানের জুটি গড়ে দলকে ১২০ রানে রেখে যান গুনারতেœ। ১টি চারে নিজে করেন ১৮ বলে ১৭ রান। 
গুনারতেœ যখন বিদায় নেন, তখন শ্রীলংকার প্রয়োজন ছিলো ২৭ বলে ৩৬ রান। সেই কাজটি দ্রুতই শেষ করার পথে হাটেন পেরেরা ও সেক্কুজে প্রসন্ন। চতুর্থ উইকেটে ১৬ বলে ২৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের খুব কাছে পৌছে দেন তারা। ফলে শেষ ১২ বলে ৯ রান দরকার পড়ে শ্রীলংকার। 
এমন দরকারটি পেরেরা-প্রসন্নই শেষ করতে পারতেন। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলে তাসকিনের শিকার হয়ে বিদায় নেন পেরেরা। ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৩ বলে ৭৭ রান করেন তিনি। এরপর জয়ের জন্য আসল কাজটি সম্পন্ন করেছেন প্রসন্ন ও থিসারা পেরেরা। ৭ বল বাকী রেখেই শ্রীলংকার জয় নিশ্চিত করেন তারা। প্রসন্ন ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২ বলে ২২ ও পেরেরা ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের মাশরাফি ৩২ রানে ২ উইকেট নেন। 
এই ভেন্যুতেই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ এপ্রিল। 
স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ ইনিংস :
তামিম ইকবাল বোল্ড ব মালিঙ্গা ০
সৌম্য সরকার ক থিসারা ব সঞ্জয়া ২৯
সাব্বির রহমান রান আউট (প্রসন্ন) ১৬
মুশফিকুর রহিম বোল্ড ব গুনারতেœ ৮
সাকিব আল হাসান ক গুনারতেœ ব প্রসন্ন ১১
মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত ৩৪
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বোল্ড ব মালিঙ্গা ৩১
মাশরাফি বিন মর্তুজা অপরাজিত ৯
অতিরিক্ত (লে বা-৬, ও-১০, নো-১) ১৭
মোট (৬ উইকেট, ২০ ওভার) ১৫৫
উইকেট পতন : ১/০ (তামিম), ২/৫৭ (সাব্বির), ৩/৫৭ (সৌম্য), ৪/৭০ (মুশফিকুর), ৫/৮২ (সাকিব), ৬/১৩৯ (মাহমুদুল্লাহ)। 
শ্রীলংকা বোলিং :
মালিঙ্গা : ৪-০-৩৮-২ (নো-১, ও-২),
কুলাসেকেরা : ৪-০-৪৪-০ (ও-২),
সঞ্জয়া : ৪-১-২৪-১ (ও-২), 
গুনারতেœ : ৪-০-২৪-১,
প্রসন্ন : ৪-০-১৯-১,
শ্রীলংকা ইনিংস :
কুশাল পেরেরা ক সৌম্য ব তাসকিন ৭৭
থারাঙ্গা ক মুস্তাফিজুর ব মাশরাফি ২৪
মুনাবিরা ক এন্ড ব মাশরাফি ৮
গুনারতেœ রান আউট (সাব্বির) ১৭
সেক্কুজে প্রসন্ন অপরাজিত ২২
থিসারা পেরেরা অপরাজিত ৪
অতিরিক্ত (লে বা-৪, ও-২) ৬
মোট (৪ উইকেট, ১৮.৫ ওভার) ১৫৮
উইকেট পতন : ১/৬৫ (থারাঙ্গা), ২/৭৯ (মুনাবিরা), ৩/১২০ (গুনারতেœ), ৪/১৪৭ (পেরেরা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
মাহমুদুল্লাহ : ২-০-৬-০,
তাসকিন : ২.৫-০-৩৩-১ (ও-২), 
মাশরাফি : ৪-০-৩২-২, 
মুস্তাফিজুর : ৩-০-২৪-০,
সাকিব : ৩-০-২৯-০,
সাইফুদ্দিন : ৩-০-২৩-০,
মোসাদ্দেক : ১-০-৭-০। 
ফল : শ্রীলংকা ৬ উইকেটে জয়ী। 
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো শ্রীলংকা।