বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৩ পৌষ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

অবৈধ ক্ষুদ্র ঋণদাতাদের কবল থেকে দরিদ্রদের মুক্ত করছে সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম


প্রকাশন তারিখ : 2017-02-25

গ্রামীণ হাজার হাজার দরিদ্র মানুষকে ঋণদাতাদের কবল থেকে মুক্ত করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপজেলা সমবায় অফিস, যুব উন্নয়ন বিভাগ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এবং অন্যান্য বিভাগ মাত্র ৮ শতাংশ সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বিআরডিবি’র উপ-পরিচালক আবদুস সবুর বলেন, ‘আমাদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সুবিধা গ্রহণ করে ৯৩ হাজার ৪শ’র বেশি দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং জেলায় অবৈধভাবে ঋণদানকারীদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়ক হয়েছে।’
তিনি বলেন, এদের মধ্যে ৪০ হাজার ৪৮১টি দরিদ্র পরিবার ‘একাটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পের অধীনে ক্ষুদ্রঋণের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের জীবিকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে।
৮টি উপজেলার ৬৮৯টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতির পরিবারের সমস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আয় বৃদ্ধির জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হয়েছে।
হরিদেবপুর ইউনিয়নের গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য মমিনুল ইসলাম বিপ্লব (৩২) বলেন, সমিতি থেকে তিনি ৭ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ২০১২ সালে হরকলি বাজারে ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসা চালু করেছেন।
নিয়মিত ঋণ পরিশোধের পর মমিনুল পরে ১৮ হাজার ও এরপরের বছর ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্ত্রী আম্বিয়া বেগমের সহায়তায় হোটেল ব্যবসা সম্প্রসারিত করেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
মমিনপুর ইউনিয়নের গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য আলিফা বেগম (৪১) বলেন, তিনি প্রথমে ১০ হাজার এবং পরে ১৫ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেন এবং স্বামী আমজাদ হোসেনের সহায়তায় বকনা বাছুর, ছাগল ও ভেড়া কিনে পালন করেন।
বর্তমানে তার ৫টি গরু, ৭টি ছাগল এবং ১০টি ভেড়া এবং দেড় একর কৃষি জমি লিজ নিয়েছেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হাজার ২৫০ পরিবারকে ৩৭টি ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’-এ পুনর্বাসনের পর ক্ষুদ্রঋণের টাকা ব্যবহার করে জীবিকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে।
গাইবান্ধা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাসসকে বলেন, ১৯টি আশ্রয়ন কেন্দ্রের ২ হাজার ৩৮০টি নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের পরে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে তাদের জীবিকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে।